top of page

শেষটা অন্যরকম হোক

  Notion  of  Grow Up 

সিরিজ-২

শেষটা অন্যরকম হোক

অধ্যায়ঃ-১ (জীবনের ফোঁড়)

আপনি থেমে গেছেন?
কিন্তু, জীবন কখনো থেমে থাকে না সেটা জানেন কি?
জীবনের আঁকিবুঁকির লেপ্টে থাকা রঙে আঁট হয়ে লেগে থাকে কালো আবরণ। তবে, সাদার ঘষা-মাজায় কালো আবরণ কি খোলা সম্ভব???
চলুন তাহলে শেষ থেকে করি শুরু.....
ছোটবেলা চালের বস্তায়, সুতোঁর যে সেলাই থাকে সেটিকে দেখতাম নানাভাই কোনো একটা সুতোঁর কোনা কেঁটে একপাশ থেকে টান মেরে সবটা খুলে ফেলত!
আমি অনেকবার খোলার চেষ্টা করেও খুলতে পারিনি!
তখন নানাভাইকে জিজ্ঞেস করতেই বলল, "শেষ থেকে শুরু কর।"
মানে যেখানে সেলাই শেষ হয়েছে সেটা খুঁজে বের করতে পারলেই কাজ শেষ।
আমি সেটা করলাম।
বাহ! দারুণ তহ, খুলে গেল!
দূর্ভাগ্যবশত, সেই অসাধারণ ব্যক্তিটি (নানাভাই) দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে গিয়েছেন
আসলে, সবকিছুই যে শুরু থেকে শুরু হবে এমনটা নয় বরং শেষ থেকেও শুরু হতে পারে ভালোর অধ্যায়।
তাইতো, প্রবাদ প্রবচন করা হয়, "শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।"
ভাববার অবকাশ নেই যে, আমি মজা-মাস্তি ইচ্ছেমত করে নিই, সময় হলে দেখা যাবে!
বরং, শেষ ভেবেই করতে হবে শুরু।
আচ্ছা!
আমাদের বাবা-চাচারা কি বেশিদূর পড়াশুনা করতে পেরেছিলেন?
তারা কি না খেয়ে আছেন?
তা'তো না, তাই না?
আসলে, আমরা নিজেদেরকে অন্যের সাথে তুলনা করে একটা প্রতিযোগিতার লিপ্ত হয়ে যাচ্ছি।
মানে, ও এমন তাই আমাকেও এমন হতে হবে হয়ত!
কিন্তু, আদতে তিনি আর আমি যে এক নই এটা ভাবার অবকাশ হারিয়ে ফেলছি আমরা!
হয়ত আমার এমন কিছু দক্ষতা আছে যেটা তার নেই; অপরদিকে সেই ব্যাক্তিরও এমন কিছু দক্ষতা আছে যা হয়ত আমার নেই।
তাহলে কেন এত তুলনা!
কেন এত ভবিষ্যত চিন্তা?
কেন এত হতাশা?
কেন এত আত্মহত্যা?
"আসলে জট পাকিয়েছে জটে খুলবে কি করে তা তহ বটে"

শেষটা অন্যরকম হোক

অধ্যায়ঃ-২ (প্রতিযোগিতার দৌড়)

"চুল না শুকায়ে বেনী করে ফেললে জট পাকাটা কিন্তু স্বাভাবিক।"
সহজেই বুঝে গেলেন তাই না!
দেখুন, ভেজা কিংবা শুকনো এই দুইটি শব্দ চুলের অবস্থা বলে দিচ্ছে।
কিন্তু, জীবনের ফোঁড়ে চোরের মায়ের বড়-গলা!
বুঝলেন নাতো!
চলুন বুঝার চেষ্টা করি.....
আমরা সকলেই জানি যে তথাকথিত এই জিনিসটা ভালো না, কিন্তু তারপরেও আমরা এটাই উপভোগ করছি। যেমনঃ সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে লিখা থাকে "ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর" তাতেও কিন্তু এটা পান থেকে বিরত থাকছে না বরঞ্চ চেইন স্মুকার উপাধিতেও কেউ উপাধিত। এমন গাদা-গাদা উদাহরণ রয়েছে।
মানে আমরা জেনে সেটা আরো বেশি করে করি, আর সেটাই হচ্ছে জীবনের ফোঁড়ে চোরের মায়ের বড়-গলা"।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, জীবনের প্রতিটি ফোঁড়ে প্রতিযোগিতার দৌড় আকাশ্চুম্বী। একটা চাহিদা শেষ তহ আরেকটা শুরু।
উমুক সাহেব এত উপরে চলে গেছে তাহলে আমাকেও আরো উপরে উঠতে হবে। পরিপ্রেক্ষিতে তমুক সাহেব একদম উপরে চলে যায়, যেখান থেকে আর ফিরে আসতে পারেনা।
না! না! আমি মৃত্যুর কথা বলছিনা।
এখনকার সময়ে এইরকম চিন্তা করা যায় নাকি!
এখন কেউ আর মরে নাকি?
আমি তহ লোভের কথা বলছিমাত্র।
অবশ্য আপনারা মৃত্যুর কথাও ভাবতে পারেন!
কেননা, লোভের প্রাথমিক ধাপ পাপ হলেও চুড়ান্ত ধাপ কিন্তু মৃত্যু।
সে যাইহোক, প্রতিযোগিতায় আমরা ঢুকে পড়েছি। এখন চুড়ান্ত ধাপে আছি। অমুক সাহেবের এখন একটা পেন্টহাউজ হয়েছে।
বাহ! দারুন।
কিন্তু, শান্তি? শান্তিকে তহ দেখতে পাচ্ছিনা!
না!না! আমি সেই শান্তির কথা বলছিনা, আমি তহ মানসিক শান্তির কথা বলছিমাত্র।
*পেন্টহাউজ বলতে বিলাসবহুল মনোরম বাড়িকে বুঝানো হয়। তবে এক্ষেত্রে, বন্ধুমহলকে বুঝানো হয়েছে।*

শেষটা অন্যরকম হোক

অধ্যায়ঃ-৩ (শান্তির খোঁজে)

টেরাজোসিন হাতে নিয়ে প্রতিরাতে খুঁজি শান্তি, কিন্তু সেকি!
আমি তহ পেয়ে গেলাম শান্তির মায়ের ভেলঁকি!
দেখি প্রশ্ন করে কি বলে উনি!
এইযে শান্তির মা শুনছেন!
শান্তিকে আমি খুঁজে পাচ্ছিনা কেন?
শান্তির মাঃ নিরব....
আচ্ছা আমি শুনেছি নীরবতা সম্মতির লক্ষণ। কিন্তু শান্তির মা এ কোন সম্মতি দিচ্ছে?
আচ্ছা! এটাই কি সেই হতাশা!
তাহলে আমি কি আরো আগেই হতাশায়! যা আমার বানানো শান্তির কারসাজি?
ঢুকে গেলাম হতাশায়!
রাত কাটেনা, আবার কোনোমতে কেটে গেলেও দিন কাটেনা।
ছুটছি আমি আপন মনে শান্তির খোঁজ পাব বলে....
শান্তি কি তবে মিলিয়ে গেল অবেলা-কালবেলা???
সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে; একদিন সকালবেলা আপনি ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, বাড়িতে আগর এর ঘ্রাণ, সকলে মিলেমিশে কান্না করছে, বাতাস অনেক ভারি হয়ে উঠৈছে, যেই গরম পানি দিয়ে শীতের সকালে উষ্ণতার গোসল দিতেন, সেই গরম পানি করা হচ্ছে ঠিকই কিন্তু, পানিতে দেওয়া হয়েছে কিছু বরই পাতা! আপনি তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেন! কিন্তু, কেউ সাড়া দিচ্ছেনা!
সবশেষে বুঝে গেলেন, আপনিই চলে গেলেন দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে।
তাহলে, শান্তির খোঁজ কি বন্ধ হয়ে গেলনা?

শেষটা অন্যরকম হোক

অধ্যায়ঃ-৪ (জীবন তৈরির পরিকল্পনা)

শান্তির খোঁজ অব্যাহত রাখতে আমরা একটা নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করি চলুন...

আমাদের নতুন মাত্রা হল-"টাইম ম্যানেজমেন্ট"।

সময়গুলিকে কাজে লাগানো যার মূলকথা।

বন্ধু-বান্ধব মানে ক্যাম্পাস কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে সাহায্য-সহযোগিতা, কোনো পরামর্শ কিংবা এই ধরণের কোনো কিছু।

এখন যদি এমন হয় যে, আমার কিছু বন্ধু/বান্ধবী আছে যাদেরকে কোয়ালিটি টাইম দেওয়া লাগে, পিঠা উৎসব, মেলা, ঘুরাঘুরি, ইত্যাদি করা লাগে বিশ্বাস করেন এতে আপনি মানসিকভাবে, অনেক শান্তি পেলেও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলি নষ্ট করে ফেলছেন!

চিন্তা করে দেখুন, এত-শত ম্যানেজমেন্ট এর মধ্যে আর কি-বা আপনি ম্যানেজ করতে পারবেন!

ক্যারিয়ার না থাকলে বিশ্বাস করেন বন্ধু-বান্ধবদের সাহচর্যও ভাল্লাগবেনা।

নিজেকে কোয়ালিটি সময় দিয়ে দেখেন। আর দু-একজন ভালো বন্ধু ছাড়া বন্ধু-বান্ধব কমিয়ে ফেলেন।

বিভিন্ন উৎসব গুলাতে আমি/আপনি না গেলে কিছুই হবেনা। প্রকৃতির নিয়মে এগুলো চলতেই থাকবে।

"""সময়গুলিকে বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না মূলত এটাই হচ্ছে টাইম ম্যানেজমেন্ট"""

(আমি বিষয়গুলিকে খারাপ দিক থেকে দেখছিনা শুধুমাত্র টাইম ম্যানেজমেন্ট থেকে চিন্তা করে দেখুন আপনার সাথে এটা হচ্ছে কিনা??)

বি.দ্রঃ (উপরের আলোচনাটুকু আমার ব্যক্তিগত প্রত্যক্ষণ, অনেকের ভিন্নমত থাকতে পারে।)

জীবন তৈরির বর্তমান ধারনা হচ্ছে "প্রতিযোগিতা"। আমাকে তাড়াতাড়ি এইটা করতে হবে, সেটা করতে হবে।

কিন্তু, প্রাপ্যতার জন্য কর্মের প্র‍য়াসটুকুইবা আছে কয়জনের?


মূলত, ব্রেইন ওয়াসে নিজেই ধরা দিলে ছ্যাঁকা খাওয়াটা স্বাভাবিক না!

শাঁন্তির খুজে শাঁন্তির মায়ের দেখা পাওয়া গেলেও শাঁন্তির দেখা কিন্তু মেলেনি।

না দেখা পাওয়ার কারণ এতক্ষণে “টাইম ম্যানেজম্যান্ট আপনাকে বুঝিয়ে দিয়েছে হয়ত!”

প্রজ্ঞা মানে কি বুঝেন তহ?

ব্যক্তিগত জ্ঞান। অর্থাৎ, কোনো কিছু সঠিকভাবে জানার স্বার্থে নিজে তা অধ্যায়ন করা।

এই প্রজ্ঞা এবং টাইম ম্যানেজমেন্ট হলো জীবন তৈরির মূল হাতিয়ার। যাদের চাটাচাটির অভ্যেস আছে, তারা আবার এটি বুঝবে না!

সে যাইহোক! বিশ্বাস করেন আর নাই করেন, সময়ের সঠিক ব্যবহারে শান্তি আপনাকে স্বাগতম জানাবে।

বলবে, "কোথায় ছিলে এতদিন তুমি পাইনিকো তোমার খোঁজ, আজ যে আমি আশাবাদ নিয়ে হাজির হে সুবুঝ!"

সাফল্য অর্জনে যা যা গুণাবলী থাকা উচিত:

  • সাধারণ জ্ঞান

  • নিজ বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান(প্রজ্ঞা)**

  • আত্মপ্রত্যয়

  • বুদ্ধিমত্তা

  • কাজ করার দক্ষতা

  • নেতৃত্ব

  • সেম্মোহনী শক্তি**

  • ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার দক্ষতা**

  • সৃজনশীলতা

  • আত্মবিশ্বাস**

  • যথাযথ সময় ব্যবস্থাপনা**

  • অন্যের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থাকা(পেন্টহাউজ)**

  • ভাগ্য**

উপরোক্ত গুণাবলী যারা অর্জন করেছেন তারাই সাফলতা লাভ করে থাকেন।

এই গুণগুলো জন্মসূত্রে না থাকলেও প্রজ্ঞা ও টাইম ম্যানেজমেন্টকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।

শেষটা অন্যরকম হোক

অধ্যায়ঃ-৫ (শেষ থেকে শুরু)

আচ্ছা! আপনি জানেন কি?

এই পৃথিবী আপনার অনুভূতি সম্পর্কে কোনো প্রকার চিন্তা করে না!

এমনকি আপনাকে পাত্তাই দেয় না!

আপনাকে নিয়ে আপনি কী ভাবেন তা গুরুত্বপূর্ণ!

আপনি যদি আপনার গুণাবলীর অভাবের জন্য সারা জীবন কাঁদেন এবং আপনি নিজেকে ছোট মনে করেন তার জন্য বিরক্তি পোষণ করেন, তবে আপনি অন্যদের দ্বারা গ্রাস এবং পরাজিত হবেন যাদের আপনি আপনার চেয়ে ভাল মনে করেন!

পৃথিবীর এতে কোন হাত নেই, এটি নৈর্ব্যক্তিক, কে হারল বা জিতে তাতে কিছু যায় আসে না।

বিশ্ব-পরিক্রমা আপনার বিরুদ্ধে বা পক্ষে ষড়যন্ত্র করে না, বরং আপনি এতে সম্পূর্ণ উদাসীন।

পেন্টহাউজের ব্যাপারটা একটু আউড়িয়ে দেখতে পারেন, অনেক কিছুই হয়ত আপনি পেয়ে যাবেন।

আর হ্যা অবশ্যই মনে রাখবেন,

যখন আপনার শরীর পরিচিত অতীতকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করে, তখনই আপনাকে অনির্দেশ্যতার দিকে পা বাড়াতে হবে এবং মনের প্রোগ্রামিং পুনরায় লিখতে হবে। এটি বারবার করতে হবে, এবং অবচেতন মনকে বারংবার বার্তা পাঠাতে হবে। সুযোগ হয়ত একবারই আসে You need to catchup it.....

                                    ©Mehedi Bin Selim (অবগাঢ গোয়েন্দা)

bottom of page