top of page
IMG_20221114_104137.png

অবগাঢ গোয়েন্দা

লেখালেখি আমার কোনো শখ কিংবা পেশা নয়।বরঞ্চ, চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়া সেই হিসেব চুকাতে কিছুটা ঠুনকো চেষ্টা করা; কেননা, নিমজ্জিত হিসেব যে আর মিলানো যায় না, অধরা রয়ে যায় স্মৃতির কালো পাতায়। নতুন কিছু আবিষ্কার করেই কেবল সেই হিসেব থেকে রেহাই পাওয়া যায়। বিশ্ব পরিক্রমার বৈচিত্র্য যেন এক অঢেল জ্ঞানার্জনের বিদ্যালয়। তাই, জগৎটাকে নতুন করে জানার প্র‍য়াসেই আমার লেখালেখি।জ্ঞানার্জন এর বিষয়টা আসলে,"রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পের মত""যেন শেষ হয়েও হইলনা শেষ"
 

Notebook

শিক্ষা অর্জনের সীমাবদ্ধতা আমৃত্যু পর্যন্ত

"The important thing is not to stop questioning. Curiosity has its own reason for existing."
-Albert Einstein

এই পৃথিবীর আনাচে-কানাচেতে প্রত্যেকটি বিষয় যেন জ্ঞানালয় তথা জ্ঞানের ছিটেফোঁটা সর্বত্র বিস্তৃত। শুধুমাত্র কুড়িয়ে নেওয়াটাই যেন সার্থকতা। জীবনের প্রতিটি পদস্ফলনে এক নতুন বিষয় আপনাকে ঘিরে ধরবে। তবে, যদি আপনি বিষয়টি অনুধাবন করে শিক্ষালব্ধ জ্ঞানের ব্যাপকতা এখানে মিশিয়ে দিতে পারেন তাহলে আপনার অভিজ্ঞতা যেন আগের চেয়ে একটুখানি উপরে ধাবিত হল। এভাবে, আমৃত্যু আপনি শিখবেন নতুন থেকে নতুন কিছু। জীবনের প্রতিটি মূহুর্তে এই যে ধরাও-পাকড়াও বিষয়গুলি এভাবে আয়ত্ত্ব করতে হলেও জানার কোনো বিকল্প নেই।জানার একটি উত্তম উপায় হল প্রশ্ন। যত প্রশ্ন তত জানা, তত জ্ঞানার্জন। অলস সময়ে অধিক পড়ুন, শক্তিশালী বিবেক গড়ুন।

1.jpg

সিরিজ-১
সৃজনশীলতার গোপন রহস্য

কিস্তি-১

বিদ্যা অন্বেষণের প্রাথমিক স্তরকে জ্ঞানের স্তর বলা হয়। কেননা, এ স্তরে আমরা কেবল শিক্ষার প্রবাহে গা ভাসাতে আরম্ভ করি। গা ভাসাতে ভাসাতে যখন আমরা জ্ঞানের স্তরকে অনুভব করতে শিখি তখন জ্ঞানের সাথে অনুধাবন নামক স্তরটিও নতুন মাত্রা হিসেবে যোগদান করে। জ্ঞানের পরিধি অনুভবে রুপান্তরকল্পে এটি বড্ড কার্যকর। ভাবনার নতুন দুয়ার জ্ঞানকে আরো সমৃদ্ধ করতে অনুভবের সাথে ভাব জমাতে শুরু করে প্রয়োগ নামক স্তর। শিক্ষালব্ধ জ্ঞান এখানে প্রয়োগ করে নিজেকে মূল্যায়ন করাই এই স্তরের কাজ। কিন্তু আরো একটি স্তর উহ্য রয়ে গেছে যা ছাড়া এই প্রয়োগ স্তরটি একদমই অকার্যকর। স্তরটির নাম উচ্চতর দক্ষতা স্তর। গঠনগত দিক থেকে উচ্চতর দক্ষতা স্তরটি; প্রয়োগ স্তরের পরে অবস্থান করলেও কার্যত, উচ্চতর দক্ষতা অর্জন ব্যতীত প্রয়োগ যেন কল্পনামাত্র।
বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বুঝতে চলুন ঘুরে আসি অন্য এক জগতে। "Research Methodology" বা "গবেষণা পদ্ধতিশাস্ত্র" বলতে সহজে যা বুঝায়;  এটি হলো নতুন তথ্য আবিষ্কার করে বর্তমান জ্ঞান বৃদ্ধি বা সংশোধনের নিমিত্তে পদ্ধতিগত অনুসন্ধানী প্রক্রিয়া। গবেষণার মাধ্যমে সত্যের অনুসন্ধান করা হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত সত্যকে না পাওয়া যায় ততক্ষণ পর্যন্ত অবিরাম এই খোঁজ চলতেই থাকে। সত্যকে জেনে সেই সত্যকে প্রকাশ করার সাহসিকতাই এর উদ্দেশ্য। সত্য খুঁজে না পেয়ে মিথ্যা বলা বা সত্য খুঁজে পেয়েও উদ্দেশ্যমূলকভাবে সত্যকে গোপন করে মিথ্যা প্রকাশ করা এর কাজ নয়।
এর তিনটি ধাপ রয়েছে: প্রথমটি – প্রশ্ন উত্থাপন করা, দ্বিতীয়টি – প্রশ্নের উত্তর তথ্য সংগ্রহ, এবং তৃতীয়টি প্রশ্নের প্রাপ্ত উত্তরটি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা। এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল এর নতুনত্ব (novelty) থাকতেই হবে। অর্থাৎ ইতিপূর্বে মানবজাতির জানা ছিলোনা এমন সত্য আবিষ্কার এখানে থাকতেই হবে।এইবার আসা যাক মূল কথায়! "Research Methodology" এই জগতটা আসলে উচ্চর দক্ষতার একটি বিস্তৃত রূপ। তাহলে বুঝতেই পারছেন এটি ছাড়া প্রয়োগ স্তরটি কল্পনামাত্র..

Untitled

সৃজনশীলতার গোপন রহস্য

কিস্তি-২

২০০৯ সালে আলোড়ণ সৃষ্টি করা একটি চমকপ্রদ মুভির নাম "3 idiots." খুব ভালোভাবেই মনে পড়ে আমার সেই দুটি উক্তি; যার প্রথমটি বোমান ইরানীর (চরিত্রেঃ ভাইরাস), "LIFE IS A RACE. IF YOU DON'T LIKE A RUN FAST... YOU WILL BE BROKEN ANDAA"
এবং দ্বীতিয়টি আমির খান (চরিত্রেঃ রেঞ্চু),"SUCCESS KE PEECHE MAT BHAAGO, EXCELLENCE KA PEECHA KARO, SUCCESS JHAK MAARKE TUMHARE PEECHE AYEGI"
আচ্ছা! এই দুইটার মধ্যে কি অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ রয়েছে আপনি বলতে পারবেন?

আচ্ছা আমিই বলে দিচ্ছি! বুঝার সুবিধার্থে, প্রথম উক্তিটির নাম দিলাম Short Term Policy এবং দ্বিতীয়টির নাম দিলাম Long Term Policy.

পড়াশুনার পাশাপাশি কিছু করতে না চাইলে প্রথম উক্তিটি আপনার জন্য। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা নিয়ে পড়ে থাকলেন কিন্তু বৈশ্বিক পরিমন্ডল আপনার কাছে যেন শ্বাসরোধের মত। আপনি যেন ভেবেই বসে আছেন এমনি এমনি চলুক কয়দিন, আবার আসিব ফিরে ধান-সিড়িটির তীরে! কিন্তু, আদৌ তা কি সম্ভব? আচ্ছা! আমি যদি বলি আপনি কি যেতে পারবেন সেই সময়ে যেখানে আপনি নিষ্পাপ শিশু ছিলেন ভূ-মন্ডলির কোনো-কিছুই আপনার জানা ছিল না?

নিস্তব্ধ হয়ে গেলেন তাই না?

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যান,আপনার প্রতিবিম্বের দিকে তাকান নেহাত আপনাকে দেখতে পাবেন আপনি, হারিয়ে যাবেন কোনো এক জগতে; যেখানে আপনার প্রতিবিম্ব আপনাকে নিয়ে যাবে সেই অচিনপুরে যা আপনার অগোচরে।

আর অপরদিকে দ্বিতীয় Term টি সেই বহুল প্রচলিত ধৈর্যের গুন নামে পরিচিত। যা অর্জনে আপনাকে কোমড়ে গামছা বেঁধে নামতে হবে মাঠে, অভিজ্ঞতার বন্যায় নিজেকে ভাসিয়ে দিতে হবে নতুন আংগিকে, অঢেল বন্ধু-বান্ধবদের মায়া ত্যাগ করে গবেষণা চালাতে হবে নিজের দক্ষতার উপরে, আবিষ্কার করতে হবে হাড়িয়ে ফেলা নিজের সুপ্ত প্রতিভাকে, আড্ডানামক নিমজ্জিত সময়কে কাজে লাগাতে হবে দক্ষতা অর্জনে। কালের স্রোতে আপনি পাড়ি জমাবেন নতুন নতুন জীবনযাত্রায়। আপনার বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে অজস্র প্রতিযোগী। প্রথম উক্তিটি আপনাকে দুনিয়ার মোহে আচ্ছাদিত করবে কিন্তু দ্বিতীয় উক্তিটি আপনাকে সফলতার সহজ রাস্তা দেখাবে। মনে রাখবেন," সবুরে মেওয়া ফলে।" 
""ধৈর্য্য ধর ধৈর্য্য ধর বাঁধ বাঁধ বুক, শতদিকে শত দুঃখ আসুক আসুক""
আচ্ছা! 3 idiots ছবি তহ ৩ ঘন্টায় সফলতার ঝুড়ি দেখিয়ে দিয়েছিল বাস্তবে তা কি সম্ভব? সিনেমায় যেভাবে সবকিছু হিরোর অনুকূলে থাকে বাস্তবে তা কি সম্ভব???

Untitled

সৃজনশীলতার গোপন রহস্য

কিস্তি-৩

জ্বি! আলহামদুলিল্লাহ আপনি ঠিকই ধরতে পেরেছেন। ৩ঘন্টায় সফলতার দেখা মেলা ভার। আবার সিনেমার সবকিছু  বাস্তবে কল্পনামাত্র।আমাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল সৃজনশীলতার গোপন রহস্য। প্রিয় পাঠক, উপরিউক্ত ১ম কিস্তির আলোচনায় জ্ঞান এবং অনুধাবন স্তর আমরা সহজে রপ্ত করতে পারলেও ২য় কিস্তি পড়া সত্ত্বেও প্রয়োগ এবং উচ্চতর দক্ষতার স্তরটি এখনো বুঝতে সক্ষম হয়নি হয়ত!

তাহলে চলুন আমরা একটা চিরাচরিত জগতে বেড়াতে যায় যেখানে হয়ত কিছুটা ধারণা পেতে পারি প্রয়োগ ও দক্ষতার।
 

আমাদের গন্তব্য "চাকরিপুরে"। চাকরিপুরে যেতে না যেতেই  হটাৎ চালাক মিয়ার সাথে আমার দেখা হয়ে গেল! উনার সাথে কুশল বিনিময় করতে গিয়ে জানতে পারলাম উনি অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এখন পর্যন্ত ৬টি চাকরি পরিক্ষা দিয়েছেন। আপনি হয়ত ভাবছেন কি অভিজ্ঞতাটাই না অর্জন করল চালাক মিয়া! যদি আপনি তাই ভেবে থাকুন তাহলে জেনে নিন আপনিও 3 Idiots এর ১ম উক্তি তথা সেই Short Term Policy এর সাথে জড়িয়ে গেছেন। যা কোনো অভিজ্ঞতা নয় বরং আলোকিত জীবনের বাধাস্বরূপ অস্থায়ী সমাধানকৃত আবেগময় সরণি। অপার সৌন্দর্যমন্ডিত জীবনের সাথে কেবল মশকরা বৈকি আর কিছুই না!

আসলে চাকরি কিংবা ক্যারিয়ার হল জীবনের শেষ স্তর আর এটাকেই বলে প্রয়োগ স্তর। যেহেতু গঠনগত দিক থেকে সর্বশেষ স্তর উচ্চতর দক্ষতা তাই আমাদের হিসেব মিলে না। যদি চালাক মিয়া ৬টি পরিক্ষা না দিয়ে বরং একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করতেন এবং ঐ টাকাগুলো দিয়ে ইফেক্টিভ বই কিনে পড়তেন তাহলে হয়ত তার আর ৬টি পরিক্ষা দেওয়া লাগত না। উচ্চতর দক্ষতা অর্জনের ফলে সত্য এবং সঠিক প্র‍য়োগ করতে পারতেন।
 

আচ্ছা! এটা কি আসলে চালাক মিয়ার সমস্যা নাকি পদ্ধতিগত সমস্যা নাকি অন্যকিছু?

istockphoto-1158148739-612x612-01.jpeg

সৃজনশীলতার গোপন রহস্য

কিস্তি-৪

সময় তার গতিপথে ঘুড়ছে সেকেন্ডকে পুঁজি করে; ফলশ্রুতিতে সেকেন্ড থেকে মিনিট এবং তা থেকে ঘন্টা এভাবে সপ্তাহ, পক্ষ, মাস, বছর গড়িয়ে পুঁজির পাল্লার ওজন বেড়েই চলেছে সময়ের। কিন্তু আমাদের সচেতন মস্তিষ্ক যেন সময়ের শুন্যবাধনে অচেতন। তাই, সময়ের শুন্যবাধনে আজ অনেক ডিগ্রীধারী যেন অধোৎগতিশীল। 

সমস্যাটা তাহলে কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে চলুন আজকে আমরা পাড়ি জমায় "স্নাতক পাড়ায়।" কিন্তু, এ পাড়াতে যেতে হলে আপনাকে দুটি পর্যায় অতিক্রম করতেই হবে। সময়ের শুন্যবাধনের মতই; যেখানে সময়ের প্রথম পর্যায়/পুঁজি ছিল সেকেন্ড সেখানে আপনার হবে জ্ঞান। এবং দ্বিতীয় পর্যায়টি হল অনুধাবন যেখানে সময়ের ছিল মিনিট। খেয়াল করে দেখুন সময়ের ক্ষেত্রে সেকেন্ডকে মিনিটে রুপান্তর করে ঘন্টাতে পৌঁছায়। অর্থাৎ সেকেন্ড, মিনিটকে দায়িত্ব দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে এবং মিনিট ঘন্টাকে দায়িত্ব হস্তান্তর করে। কিন্তু,  আমাদের বেলায় এই নিয়মটা একটু ভিন্ন। আমাদেরকে জ্ঞান এবং অনুধাবনকে একত্রে নিয়ে উচ্চতর স্তরে যেতে হয়। জ্ঞান,অনুধাবন এবং উচ্চর দক্ষতার সংমিশ্রণে "স্নাতক পাড়ার" অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয়। আমরা কিছু জ্ঞান এবং অনুধাবনকে পুজি করে এইবার চলে এলাম "স্নাতক পাড়ায়"।মনে করে দেখুন প্রথম কিস্তিতে প্রকাশিত "Research Methodology" এর কথা। আপনি চাইলে আরেকবার এই Research Methodology এক নজর দেখে আসতে পারেন। মূলত, স্নাতক পাড়াতেই এই  শাস্ত্রবিদ্যার সূচনা হয়। এইবার দেখাযাক আসলেই স্নাতক পাড়ায় কতটুকু এটি কার্যকর হয়! "স্নাতক পাড়া" বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা যে শিক্ষা অর্জন করি তাকে বলা হয়ে থাকে "Tertiary Education"। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ কি বলেছিলেন জানেন? তিনি বলেছিলেন,“সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালী করে মানুষ করোনি”। আচ্ছা কখন কেউ এ কথা বলে বুঝতে পারেন?

তাহলে সমস্যাটা কি?

i)তথাকথিত পদ্ধতির,

ii)নাকি ব্যক্তির নিজেরই,
যদি, প্রথমটি সঠিক হয় তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, প্রতিবছর যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সফলতা লাভ করে তারা কি সেই পদ্ধতির বাইরে ছিল?
আবার যদি, দ্বিতীয়টি সঠিক হয় তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, যারা অনেক পরিশ্রম করা সত্বেও কোনো সফলতার দেখা পায়নি তারা কি ভুল ছিল?

সৃজনশীলতার গোপন রহস্য

কিস্তি-৫

        "মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।" এটি আমাদের কারোরই অজানা নয়। কেননা লক্ষ্যে পৌঁছাতে দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার বিকল্প নেই। মানুষ সামাজিক জীব। আবার, পৃথিবীতে সকল মানুষের অধিকার সাতন্ত্র‍্য। তাই, প্রত্যেকটি মানুষের প্রত্যক্ষণ ভিন্ন। তবে, ভিন্ন প্রত্যক্ষণ হলেও আমাদের সবার লক্ষ্য একই বিনিসূঁতোর মালায় গাঁথা।

খেয়াল করে দেখবেন,""লক্ষ্য= সংকল্প+পরিশ্রম+সাধনা""এবার আপনি সমীকরণের খেলা খেললে দেখবেন যে; "সংকল্প/পরিশ্রম/সাধনা" এর যেকোনো একটিকে ক্ষমতা দিতে চাইলে "লক্ষ্য" বাকি দুটোকে সড়িয়ে দিবে। কেননা, "লক্ষ্য" একটি সামষ্টিক বিষয় এটিকে আপনি একক কোনো উপকরণ দিয়ে স্পর্শ করতে পারবেন না।

সমস্যা কি তাহলে খুজে পেলেন?
যদি পেয়ে না থাকেন তাহলে আপনাকে আমি নিয়ে যাচ্ছি আপনার অন্তপুরের গভীর সাম্রাজ্যে। "যেখানে আপনি একাই রাজা আর কারো কোনো রাজত্ব নাই"। যেখানে আপনি নেশায় বুঁদ হয়ে আছেন মোহ-মায়ায়। যাতে করে, অন্তপুরের রোজনামচার হাহাকার আপনি শুনতে পাচ্ছেন না। জসনে-জুলুসে জলসে দিচ্ছেন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে। কল্পনার জগতের নির্মম খেলায়, বাস্তবতার জীবনকে সঁপে দিচ্ছেন হেলায়। আবার আপনিই বলছেন পড়লাম আমি এ কোন জ্বালায়, ইচ্ছে হয় দূরে কোথাও পালাই!

 

কিন্তু, এখানে তহ আপনাকে দোষারোপ করা যাচ্ছে না! কেননা, ব্যক্তিসত্বা (মানুষ) এমন এক সত্বা যাকে আপনি দোষারোপ করতে পারবেন না। শুধুমাত্র তার কৃত-কাজ আপনাকে তার সম্পর্কে ধারণা দিবে। যদি তার কাজ ভালো হয় আমরা ধরে নিই সে ভালো আর খারাপ কাজ করলে তার বিপরীত মন্তব্য করতে অনুরাগী হয়ে উঠি। এতে স্পষ্ট যে, "ব্যক্তি নয় বরং তার কাজেই তার পরিচয়"।অতএব, আপনি বেঁচে গেলেন। সমস্যার গোড়াপত্তনে আপনি অনুপস্থিত।

খুশি হয়ে গেলেন?

অতি আনন্দিত হওয়ারও কিছু নেই। ভেবে দেখুন; ভালো কিংবা খারাপ কাজের মাধ্যম কিন্তু আপনিই।

যাইহোক,"কথার রেশ কাটবেনা কখনো, এ যেন এক মায়া, কোমল কন্ঠে কথা হলে তবে মনেতে দেবে তা দোলা। এবার তাহলে ভাঁসিয়ে দেওয়া যাক সমস্যার মূল ভেলা।

সমস্যা মূলত,আমাদের অযাচিত জীবনের

১)অপপ্রয়োগকৃত পূর্বশর্ত

২)ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণ
হতাশ হলেন?

হতাশ হবেন না!
নিমজ্জিত জীবনের মজ্জা খুঁজে ধরাও-পাকড়াও নামক সৃজনশীল জগতকে নতুন মাত্রা দিতে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ..

😊

istockphoto-1313859236-612x612.jpg

সৃজনশীলতার গোপন রহস্য

কিস্তি-৬ (সমাপ্ত)

আচ্ছা! আমি যদি বলি আপনি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন সৃজনশীলতার মায়াজালে, আপনি কি অবাক হবেন?
আমরা সকলেই জানি, উভয়-সংকট (Dilemma) মানে দো-টানায় থাকা। একটা মজার বিষয় হচ্ছে, "মোটামুটি" নামে আমরা একটা শব্দ ব্যবহার করি। আপনি কি জানেন এটি আসলে ভালো+খারাপের সংমিশ্রণ।

আচ্ছা! আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ভালো আর খারাপ কি কখনো মেশানো সম্ভব?

অথবা,যদি মেশানো যায় তাহলে ফলাফল কেমন হবে?

আপনারা আমাকে এবারো উত্তর দিবেন, "মোটামোটি"। মূলত এটাই হচ্ছে উভয়-সংকট। মনের অপ্রস্তুত/অবিবেচিত/অচেতন অবস্থার উত্তর এটি। বিশ্বাস করেন ভাবার মত সময় এবং জ্ঞান যদি আপনার থাকত আপনি আমাকে ভালো/খারাপ এ দুটি অপশান থেকে যেকোনো একটি উত্তর করতেন। কিন্তু, সৃজনশীলতার দৌরাত্ম্যে আপনি " মোটামোটি" নামক শব্দটিকে বেঁছে নিয়েছেন। 
 

আপনার গভীরে প্রবাহিত হওয়া অপার সম্ভাবনাকে স্থির করে  সৃজনশীল জগত তার মনোনিত নতুন ফাঁদ আপনাকে দিয়ে চালিয়ে দিচ্ছে। আপনি এবার বাহবা কুঁড়াতে নিজেকে সঁপে দিলেন সেই  ফাঁদে। আপনার চিন্তার জগতে বাস করছে সৃজনশীল জগতের বুনে দেওয়া বীজ। অনুভবের দরজায় তাই কড়া নাড়ছে ব্যার্থতা। হতাশানামক ব্যাধি হয়ে যাচ্ছে আপনার জীবনসংগী। পরিত্রাণের জন্য আপনি চেষ্টা চালাচ্ছেন বটে, কিন্তু তা যেন সৃজনশীল জগতের কাছে অসহায়। তাইতো ভেতর থেকে সবকিছুর একই উত্তর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে "মোটামোটি"।
জীবনে কোনোকিছুই সহজলভ্য নয়। বিষয়টি ছোট একটি গল্পের মাধ্যমে জেনে নেওয়া যাক!

 

একবার একটি আপেল বাগানের পাশ দিয়ে একজন ব্যক্তি হেটে যাচ্ছিলেন। একটি আপেল দেখে তার 'মনে' এটা খাওয়ার ইচ্ছা জন্মাল। সে গাছটির সামনে গেল যেহেতু 'মন' আপেল পাড়তে জানেনা তাই সে 'হাত' দিয়ে আপেলটি পাড়ল। মনের তৃপ্তি মেটাতে হাত আপেল খেতে পারেনা বলে 'মুখ' দিয়ে আপেল খেল। মুখ সেই আপেলকে পরিপাক করতে পারেনা বলে 'পেটে' দিয়ে দিল। এই সবকিছু বাগানের মালিক দেখে ফেলল এবং তাকে 'পিঠে' আঘাত করতে থাকল, ফলশ্রুতিতে সে কান্না করল 'চোখ' দিয়ে।

প্রশ্ন হল যেই অংগগুলো দিয়ে সে মনের তৃপ্তি পূরণ করল সেগুলোই কেন শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে গেল?

 শাস্তির আওতায় আসল 'পিঠ' আর 'চোখ'। যেখানে খোলা-চোখে "পিঠ" আর "চোখ" এর কোনো যোগসূত্র নেই।

আসলে কি তাই?

তাহলে আপনার চিন্তাকে নতুন মাত্রা দিন। চিন্তা করে দেখুন আপেলটিকে কিন্তু "চোখই" প্রথমে দেখেছিল। যার ফলশ্রুতিতে চোখ শাস্তির আওতায় এসেছে চক্রাকারে। আর পিঠের কথা ভাবছেন? এটাতো সেই "মজ্জা" যা এতক্ষন আমরা খুঁজছিলাম নতুন মাত্রা দিতে। এখানে আপনি যতবেশি ধৈর্য্য-ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারবেন সফলতা ততদ্রুতই আপনাকে ছুঁতে চাইবে। 
তাই, জীবনের পূর্বশর্ত এবং প্রত্যক্ষণ মাত্রাকে নতুন রূপে সাজাতে হবে। পালটে ফেলতে হবে নিজেকে। সমাজে প্রচলিত নীতিসিদ্ধ নিয়ম-কানুন যা না জানলে আপনি "ক্ষ্যাত নামক" উপাধিতে ভূষিত হয়ে যাবেন, তা অজানাই রাখুন। মনে রাখবেন, সফলকাম হলে যারা আপনাকে ক্ষ্যাত উপাধিতে ভূষিত করেছিল তারাই আপনার প্রশংসা করা শুরু করে দিবে। এমনকি, তারা আপনাকে সমাজের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্ব হিসেবে পরিগণিত করবে; যেখানে আপনি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত "ক্ষ্যাত" নামের কান্ডারি।

 

তাহলে, আপনার কি এখনো ইচ্ছে হচ্ছে না সেই স্বর্ন-কাঠিটিকে ছুঁয়ে দেখতে? বুদ হয়ে থাকা পরাধীনতার শিকল থেকে বেড়িয়ে আসতে? ইচ্ছে হচ্ছে না, নিজের ভিতরে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে?
যদি না হয় তাহলে আমি বলব 'তাবিব-রানা' ঠিকই বলেছিল, "কথার আঘাতে ঘুম না ভাংলে তোমাদের ঘুম ভাংবেনা"                        

🌸সমাপ্ত🌸

 

রচনা ও সম্পাদনায়ঃ

মেহেদী বিন সেলিম

সিরিজ-২

Burn up Notion Of Motivation

শেষটা অন্যরকম হোক

অধ্যায়ঃ-১ (জীবনের ফোঁড়)

আপনি থেমে গেছেন?
কিন্তু, জীবন কখনো থেমে থাকে না সেটা জানেন কি?
জীবনের আঁকিবুঁকির লেপ্টে থাকা রঙে আঁট হয়ে লেগে থাকে কালো আবরণ। তবে, সাদার ঘষা-মাজায় কালো আবরণ কি খোলা সম্ভব???
চলুন তাহলে শেষ থেকে করি শুরু.....
ছোটবেলা চালের বস্তায়, সুতোঁর যে সেলাই থাকে সেটিকে দেখতাম নানাভাই কোনো একটা সুতোঁর কোনা কেঁটে একপাশ থেকে টান মেরে সবটা খুলে ফেলত!
আমি অনেকবার খোলার চেষ্টা করেও খুলতে পারিনি!
তখন নানাভাইকে জিজ্ঞেস করতেই বলল, "শেষ থেকে শুরু কর।"
মানে যেখানে সেলাই শেষ হয়েছে সেটা খুঁজে বের করতে পারলেই কাজ শেষ।
আমি সেটা করলাম।
বাহ! দারুণ তহ, খুলে গেল!
দূর্ভাগ্যবশত, সেই অসাধারণ ব্যক্তিটি (নানাভাই) দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে গিয়েছেন।
আসলে, সবকিছুই যে শুরু থেকে শুরু হবে এমনটা নয় বরং শেষ থেকেও শুরু হতে পারে ভালোর অধ্যায়।
তাইতো, প্রবাদ প্রবচন করা হয়, "শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।"
ভাববার অবকাশ নেই যে, আমি মজা-মাস্তি ইচ্ছেমত করে নিই, সময় হলে দেখা যাবে!
বরং, শেষ ভেবেই করতে হবে শুরু।
আচ্ছা!
আমাদের বাবা-চাচারা কি বেশিদূর পড়াশুনা করতে পেরেছিলেন?
তারা কি না খেয়ে আছেন?
তা'তো না, তাই না?
আসলে, আমরা নিজেদেরকে অন্যের সাথে তুলনা করে একটা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে যাচ্ছি।
মানে, ও এমন তাই আমাকেও এমন হতে হবে হয়ত!
কিন্তু, আদতে তিনি আর আমি যে এক নই এটা ভাববার অবকাশ হারিয়ে ফেলছি আমরা!
হয়ত আমার এমন কিছু দক্ষতা আছে যেটা তার নেই; অপরদিকে সেই ব্যাক্তিরও এমন কিছু দক্ষতা আছে যা হয়ত আমার নেই। কিন্তু, কি যেন এক ফাঁক-ফোকড়ে সেই চেতনা এখন মৃতপ্রায়।
তাহলে কেন এত তুলনা!
কেন এত ভবিষ্যত চিন্তা?
কেন এত হতাশা?
কেন এত আত্মহত্যা?
"আসলে জট পাকিঁয়েছে জটে খুলবে কি করে তা তহ বটে"

1.jpg

 শেষটা অন্যরকম হোক

অধ্যায়ঃ-২ (প্রতিযোগিতার দৌড়)

"চুল না শুকায়ে বেনী করে ফেললে জট পাকাঁটা কিন্তু স্বাভাবিক।"
সহজেই বুঝে গেলেন তাই না!
দেখুন, ভেজা কিংবা শুকনো এই দুইটি শব্দ চুলের অবস্থা বলে দিচ্ছে।
কিন্তু, জীবনের ফোঁড়ে চোরের মায়ের বড়-গলা!
বুঝলেন নাতো!
চলুন বুঝার চেষ্টা করি.....
আমরা সকলেই জানি যে তথাকথিত এই জিনিসটা ভালো না, কিন্তু তারপরেও আমরা এটাই উপভোগ করছি। যেমনঃ সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে লিখা থাকে "ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর" তাতেও কিন্তু এটা পান থেকে বিরত থাকছে না বরঞ্চ চেইন স্মুকার উপাধিতেও কেউ উপাধিত। এমন গাদা-গাদা উদাহরণ রয়েছে।
মানে আমরা জেনে সেটা আরো বেশি করে করি, আর সেটাই হচ্ছে জীবনের ফোঁড়ে চোরের মায়ের বড়-গলা"।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, জীবনের প্রতিটি ফোঁড়ে প্রতিযোগিতার দৌড় আকাশ্চুম্বী। একটা চাহিদা শেষ তহ আরেকটা শুরু।
উমুক সাহেব এত উপরে চলে গেছে তাহলে আমাকেও আরো উপরে উঠতে হবে। পরিপ্রেক্ষিতে তমুক সাহেব একদম উপরে চলে যায়, যেখান থেকে আর ফিরে আসতে পারেনা।
না! না! আমি মৃত্যুর কথা বলছিনা।
এখনকার সময়ে এইরকম চিন্তা করা যায় নাকি!
এখন কেউ আর মরে নাকি?
আমি তহ লোভের কথা বলছিমাত্র।
অবশ্য আপনারা মৃত্যুর কথাও ভাবতে পারেন!
কেননা, লোভের প্রাথমিক ধাপ পাপ হলেও চুড়ান্ত ধাপ কিন্তু মৃত্যু।
সে যাইহোক, প্রতিযোগিতায় আমরা ঢুকে পড়েছি। এখন চুড়ান্ত ধাপে আছি। অমুক সাহেবের এখন একটা পেন্টহাউজ হয়েছে।
বাহ! দারুন!
কিন্তু, শান্তি? শান্তিকে তহ দেখতে পাচ্ছিনা!
না!না! আমি সেই শান্তির কথা বলছিনা, আমি তহ মানসিক শান্তির কথা বলছিমাত্র।
*পেন্টহাউজ বলতে বিলাসবহুল মনোরম বাড়িকে বুঝানো হয়। তবে এক্ষেত্রে, বন্ধুমহলকে বুঝানো হয়েছে।*

2.jpg

 শেষটা অন্যরকম হোক

অধ্যায়ঃ-৩ (শান্তির খোঁজে)

টেরাজোসিন হাতে নিয়ে আমি প্রতিরাতে খুঁজি শান্তি, কিন্তু সেকি!
আমি তহ পেয়ে গেলাম শান্তির মায়ের ভেলঁকি!
দেখি প্রশ্ন করে কি বলে উনি!
এইযে শান্তির মা শুনছেন!
শান্তিকে আমি খুঁজে পাচ্ছিনা কেন?
শান্তির মাঃ নিরব....
আচ্ছা আমি শুনেছি নীরবতা নাকি সম্মতির লক্ষণ। কিন্তু শান্তির মা এ কোন সম্মতি দিচ্ছে?
আচ্ছা! এটাই কি সেই হতাশা!
তাহলে আমি কি আরো আগেই হতাশায়! যা আমার বানানো শান্তির কারসাজি?
ঢুকে গেলাম হতাশায়!
রাত কাটেনা, আবার কোনোমতে কেটে গেলেও দিন কাটেনা।
ছুটছি আমি আপন মনে শান্তির খোঁজ পাব বলে....
শান্তি কি তবে মিলিয়ে গেল অবেলা-কালবেলা???
সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে; একদিন সকালবেলা আপনি ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, বাড়িতে আগর এর ঘ্রাণ, সকলে মিলেমিশে কান্না করছে, বাতাস অনেক ভারি হয়ে উঠৈছে, যেই গরম পানি দিয়ে শীতের সকালে উষ্ণতার গোসল দিতেন, সেই গরম পানি করা হচ্ছে ঠিকই কিন্তু, পানিতে দেওয়া হয়েছে কিছু বরই পাতা! আপনি তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেন! কিন্তু, কেউ সাড়া দিচ্ছেনা!
সবশেষে বুঝে গেলেন, আপনিই চলে গেলেন দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে।
তাহলে, শান্তির খোঁজ কি বন্ধ হয়ে গেলনা?

3.jpg

 শেষটা অন্যরকম হোক

অধ্যায়ঃ-৪ (জীবন তৈরির পরিকল্পনা)

শান্তির খোঁজ অব্যাহত রাখতে আমরা একটা নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করি চলুন...

আমাদের নতুন মাত্রা হল-"টাইম ম্যানেজমেন্ট"।

সময়গুলিকে কাজে লাগানো যার মূলকথা।

বন্ধু-বান্ধব মানে ক্যাম্পাস কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে সাহায্য-সহযোগিতা, কোনো পরামর্শ কিংবা এই ধরণের কোনো কিছু।

এখন যদি এমন হয় যে, আমার কিছু বন্ধু/বান্ধবী আছে যাদেরকে কোয়ালিটি টাইম দেওয়া লাগে, পিঠা উৎসব, মেলা, ঘুরাঘুরি, ইত্যাদি করা লাগে বিশ্বাস করেন এতে আপনি মানসিকভাবে, অনেক শান্তি পেলেও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলিকে নষ্ট করে ফেলছেন!

চিন্তা করে দেখুন, এত-শত ম্যানেজমেন্ট এর মধ্যে আর কি-বা আপনি ম্যানেজ করতে পারবেন!

ক্যারিয়ার না থাকলে বিশ্বাস করেন বন্ধু-বান্ধবদের সাহচর্যও ভাল্লাগবেনা।

নিজেকে কোয়ালিটি সময় দিয়ে দেখেন। আর দু-একজন ভালো বন্ধু ছাড়া বন্ধু-বান্ধব কমিয়ে ফেলেন।

বিভিন্ন উৎসব গুলাতে আমি/আপনি না গেলে কিছুই হবেনা। প্রকৃতির নিয়মে এগুলো চলতেই থাকবে।

"""সময়গুলিকে বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না মূলত এটাই হচ্ছে টাইম ম্যানেজমেন্ট"""

(আমি বিষয়গুলিকে খারাপ দিক থেকে দেখছিনা শুধুমাত্র টাইম ম্যানেজমেন্ট থেকে চিন্তা করে দেখুন আপনার সাথে এটা হচ্ছে কিনা??)

বি.দ্রঃ (উপরের আলোচনাটুকু আমার ব্যক্তিগত প্রত্যক্ষণ, অনেকের ভিন্নমত থাকতে পারে।)

জীবন তৈরির বর্তমান ধারনা হচ্ছে "প্রতিযোগিতা"। আমাকে তাড়াতাড়ি এইটা করতে হবে, সেটা করতে হবে।

কিন্তু, প্রাপ্যতার জন্য কর্মের প্র‍য়াসটুকুইবা আছে কয়জনের?

 

মূলত, ব্রেইন ওয়াসে নিজেই ধরা দিলে ছ্যাঁকা খাওয়াটা কি স্বাভাবিক না?

শাঁন্তির খুজে শাঁন্তির মায়ের দেখা পাওয়া গেলেও শাঁন্তির দেখা কিন্তু মেলেনি এখনো!

না দেখা পাওয়ার কারণ এতক্ষণে “টাইম ম্যানেজম্যান্ট আপনাকে বুঝিয়ে দিয়েছে হয়ত!”

প্রজ্ঞা মানে কি বুঝেন তহ?

ব্যক্তিগত জ্ঞান। অর্থাৎ, কোনো কিছু সঠিকভাবে জানার স্বার্থে নিজে তা অধ্যায়ন করা।

এই প্রজ্ঞা এবং টাইম ম্যানেজমেন্ট হলো জীবন তৈরির মূল হাতিয়ার। যাদের চাটাচাটির অভ্যেস আছে, তারা আবার এটি বুঝবে না!

সে যাইহোক! বিশ্বাস করেন আর নাই করেন, সময়ের সঠিক ব্যবহারে শান্তি আপনাকে স্বাগতম জানাবে।

বলবে, "কোথায় ছিলে এতদিন তুমি পাইনিকো তোমার খোঁজ, আজ যে আমি আশাবাদ নিয়ে হাজির হে সুবুঝ!"

সাফল্য অর্জনে যা যা গুণাবলী থাকা উচিত:

  • সাধারণ জ্ঞান

  • নিজ বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান (প্রজ্ঞা)**

  • আত্মপ্রত্যয়

  • বুদ্ধিমত্তা

  • কাজ করার দক্ষতা

  • নেতৃত্ব

  • সম্মোহনী শক্তি**

  • ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার দক্ষতা**

  • সৃজনশীলতা

  • আত্মবিশ্বাস**

  • যথাযথ সময় ব্যবস্থাপনা**

  • অন্যের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থাকা (পেন্টহাউজ)**

  • ভাগ্য**

উপরোক্ত গুণাবলী যারা অর্জন করেছেন তারাই সফলতার চাঁদমুখখানা দেখতে পেয়েছেন।

এই গুণগুলো জন্মসূত্রে না থাকলেও প্রজ্ঞা ও টাইম ম্যানেজমেন্টকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।

4.jpg

 শেষটা অন্যরকম হোক

অধ্যায়ঃ-৫ (শেষ থেকে শুরু)

আচ্ছা! আপনি জানেন কি?

এই পৃথিবী আপনার অনুভূতি সম্পর্কে কোনো প্রকার চিন্তা করে না!

এমনকি আপনাকে পাত্তাই দেয় না!

আপনাকে নিয়ে আপনি কী ভাবেন তা গুরুত্বপূর্ণ!

আপনি যদি আপনার গুণাবলীর অভাবের জন্য সারা জীবন কাঁদেন এবং আপনি নিজেকে ছোট মনে করেন, তার জন্য বিরক্তি পোষণ করেন, তবে আপনি অন্যদের দ্বারা গ্রাস এবং পরাজিত হবেন যাদের আপনি আপনার চেয়ে ভাল মনে করেন!

পৃথিবীর এতে কোন হাত নেই, এটি নৈর্ব্যক্তিক, কে হারল বা জিতল তাতে কিছু যায় আসে না!

বিশ্ব-পরিক্রমা আপনার বিরুদ্ধে বা পক্ষে ষড়যন্ত্র করে না, বরং আপনি এতে সম্পূর্ণ উদাসীন।

পেন্টহাউজের ব্যাপারটা একটু আউড়িয়ে দেখতে পারেন, অনেক কিছুই হয়ত আপনি বুঝে যাবেন।

আর হ্যা অবশ্যই মনে রাখবেন,

যখন আপনার শরীর পরিচিত অতীতকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করে, তখনই আপনাকে অনির্দেশ্যতার দিকে পা বাড়াতে হবে এবং মনের প্রোগ্রামিং পুনরায় লিখতে হবে। এটি বারবার করতে হবে, এবং অবচেতন মনকে বারংবার বার্তা পাঠাতে হবে। সুযোগ হয়ত একবারই আসে You need to catchup it.....

5.jpg
Dollar Bills

“অর্থনীতির মনোকথা”

মনোকথা-১

মানব সভ্যতার শুরুতে মানুষ জিনিসের বিনিময়ে জিনিস লেনদেন করত। এটাকে বিনিময় প্রথা বা  Barter System বলা হত। কিন্তু বিনিময় প্রথার অসুবিধা হল যদি একজন চাল চায় এবং তার বদলে সে মাছ বেচবে তবে তাকে এমন কাউকে খুঁজে বের করতে হবে যার কাছে দেয়ার মত চাল আছে এবং সে তার বদলে মাছ কিনতে ইচ্ছুক। অর্থনীতির ভাষায় এটাকে Coincidence of Wants বলে, অর্থাৎ সবার চাহিদা একে অন্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এই লেনদেনের পন্থাটা খুব একটা সুবিধাজনক ছিল না বলে তারা কোনো বিশেষ বস্তুকে মূল্যবান বলে নির্বাচিত করে সব লেনদেন তার নিরিখে করতে লাগলো। যেমনঃ বাংলায় এক সময় কড়ির খুব প্রচলন ছিল। এই কড়ির বিনিময়ে জিনিস বেচাকেনা করত লোকে। তবে এর কিছু সমস্যা ছিল। সমস্যা হল কড়ি বিভিন্ন আকারের ও ধরনের হয়। তাই এক একটা কড়ির সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন। এই সমস্যার সমাধান করতে রাজারা কোনো মূল্যবান ধাতু যেমনঃ সোনা, রুপা বা তামা ব্যবহার করতে লাগলো এবং এগুলোর আকার ও ওজন নির্ধারণ করে দেওয়া হল। এই নির্ধারিত ওজন ও আকারের ধাতব জিনিসগুলোকে নাম দেওয়া হল মুদ্রা। রাজারা নিজের প্রভুত্ব প্রজাদের বোঝানোর জন্য তাতে নিজের মুখের প্রতিকৃতি বা কোনো রাজ চিহ্ন ব্যবহার করতে লাগলো। তবে এই ধরনের মুদ্রা তৈরী করতে সোনা ও রুপার দরকার হয়, যা পাওয়া বেশ কষ্টকর এবং দীর্ঘ ব্যবহারে তা ক্ষয় বা নষ্ট হয়ে যায়। তাই Token Money এর সূচনা হল। এর প্রথম সূচনা করেন দিল্লি সালতানাতের মোহম্মদ বিন তুঘলক। তিনি মূল্যবান ধাতুর বদলে কম দামের ধাতু যেমনঃ নিকেল বা তামার মুদ্রা বানালেন এবং এই মুদ্রাগুলোর মূল্য স্বর্ণ মুদ্রার সমান ধার্য করা হল। মানে মুদ্রাগুলো Token এর মত কাজ করত, কেউ চাইলে তা স্বর্ণ মুদ্রাতে বদলে ফেলতে পারত বা এগুলো দিয়ে বেচাকেনা করতে পারত। তবে এরও সমস্যা দেখা দিল যেহেতু তামা সোনার চেয়ে কম দাম তাই, সাধারণ মানুষ এই টোকেন গুলো নকল করে আসল সোনার মুদ্রাতে বদলে ফেলতে লাগলো। এই নকল না আটকাতে পারায় রাজকোষ দ্রুত খালি হয়ে যেত লাগলো। এই কারণে সুলতানকে আগের ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হল। যদিও এই চিন্তাটা ছিল যুগান্তকারী এবং তার সময়ের জন্য এটা বড্ডো উন্নয়ন ছিল।

বিদেশী বাণিজ্য সংঘটিত হত সোনা ও রুপাতে। কিন্তু ভারত ও চীনের থেকে প্রচুর জিনিস আমদানী করার ফলে ইউরোপের রুপার ভান্ডার প্রায় শেষ হয়ে যায়। তখন ব্রিটিশ রয়্যাল মিন্টের টাকশাল পরিদর্শক (Warden of the Mint) এবং পরে ১৭০২ সাল থেকে ১৭২৭ সাল পর্যন্ত টাকশাল প্রধান (Master of the Mint) স্টার্লিংয়ের তুলনায় গিনির দাম বাড়িয়ে রুপার ব্যবহার তুলে দেন। এর ফলে খালি সোনার গিনিই ব্যবহার হতে থাকে। এরপর ইউরোপের দেশেগুলোতে ধিরে ধিরে Gold Standards বা স্বর্ণমান চালু হয়ে যায়। এই ব্যবস্থায় এক ধরনের Promissory Note মানুষ ব্যবহার করত। এই নোটগুলো সরকার বা ব্যাঙ্ক ছাড়তে পাড়ত এবং এই প্রত্যেক নোটগুলো তার উপর লেখা সমপরিমাণ সোনা দিয়ে বদলে ফেলা যেত। তাই হিসেব মত যার কাছে যত সোনা থাকবে সে তার সম পরিমাণ নোট ছাপতে পারবে। তাই আগেকার দিনে বেশিরভাগ দেশের টাকার বদলে আপনি নোটে লেখা সম পরিমাণ সোনা ব্যাঙ্ক থেকে বদল করতে পারতেন, এবং আপনি চাইলে ব্রিটিশ পাউন্ড দিয়ে আমেরিকাতেও সোনা বদল করতে পারতেন। তবে ১৯৩১ সালে ব্রিটেন এই গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডস পুরোপুরি ত্যাগ করে। ১৯৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডস বন্ধ করে দেয়। মজার বিষয় হল; ১৯৩৩ সালেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাধারণ মানুষের জন্য ডলারের বদলে সোনা দেওয়া বন্ধ করে দেয় কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ডলারে বদলে সোনা নেওয়া যেত। ১৯৭১ সালে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। একটা ১০০০০ ডলারের গোল্ড সার্টিফিকেট যা টাকার মত ব্যবহার করা যেত। খেয়াল করে দেখবেন এখানে লেখা আছে 10000 dollars in gold। তবে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডের একটা মারাত্মক সমস্যা ছিল। এই ব্যবস্থায় সোনার দাম বেঁধে দেওয়া ছিল এবং সব দেশের Exchange rate একে অন্যের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া ছিল। তার ফলে, কোন দেশ চাইলে নিজের ইচ্ছে মত টাকা ছাপাতে পাড়ত না। টাকার জোগান সোনার ভান্ডারের সঙ্গে বেঁধে দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতিতে চাহিদা অনুযায়ী টাকার যোগান দেওয়া যেত না সব সময়। এতে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হত। এই ব্যবস্থায় দেশের মানুষের বা শিল্পের উৎকর্ষতার সাথে দেশের অর্থনীতির তেমন যোগ ছিল না। যে দেশের যত সোনা তার অর্থনীতি তত মজবুত। তবে কোন দেশ বেশি রপ্তানি করতে পাড়লে তার স্বর্ণ ভান্ডার বৃদ্ধি পাওয়ার একটা সুযোগ থাকত। সবার অর্থনীতি এর ফলে যুক্ত ছিল। কোন দেশের আর্থিক মন্দার প্রভাব অন্য দেশেও পড়ত। হুট করে কোন দেশ সোনার কোন বড় ভান্ডার খুঁজে পেলে তাতে অর্থনীতিতে তার প্রভাব পরে সব ঘেঁটে যেত। তা ঠিক হতে সময় লাগত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বেশিরভাগ দেশ আমদানি ও রপ্তানি বন্ধ করে দেয় এর ফলে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড যথেষ্ট ধাক্কা খায়। তারপর বিশ্বজোরে আর্থিক মন্দা আসে তখন টাকা/মুদ্রার বদলে সোনা নেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। কারণ, সরকারের উপর মানুষের আস্থা উঠে যাচ্ছিল তাই রাতারাতি গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড সব দেশ থেকে উঠে যায়।

 

মনোকথা-২

I promise to pay the bearer... (আমি এই নোটের অধিকারীকে...টাকার অঙ্ক দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছি।) এখানে কেবল মাত্র আশ্বাসের উপরই সব চলছে। এই কারণে কোনো দেশ কত টাকা ছাপাতে পারবে তা নির্ধারণ করে সেই দেশের অর্থনীতির উপর মানুষের কতটা আস্থা আছে। সাধারণভাবে, টাকা বেশি ছাপালে টাকার যোগান বেড়ে যায় এবং চাহিদা ও যোগানের নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য জিনিসের তুলনায় টাকার ক্রয় ক্ষমতা কমে যায়। তাই অর্থনীতিতে তখন মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। তাই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি টাকা ছাপিয়ে বিশেষ লাভ হয় না। কিন্তু আপনি প্রশ্ন করতে পারেন তাহলে তো টাকা ছাপানো বন্ধ করে দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই করা যায় বটে, কিন্তু এখন সব দেশের সরকার উন্নয়নের জন্য মোটামুটিভাবে বাজেটে ঘাটতি (Deficit) নিয়ে চলে। এই ঘাটতি পূরণ করার সবচেয়ে ভালো উপায় হয়ত টাকা ছাপানো নয়ত ঋণ নেওয়া। আগেই বলেছি বেশি টাকা ছাপালে মুদ্রাস্ফীতি হয় তাই বেশিরভাগ সরকার ঋণ নেয়।

এই ঋণগুলো দুইভাবে শোধ করা যায়ঃ

(১) ঋণের টাকায় রাস্তাঘাট, বিদুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ইত্যাদি পরিকাঠামো বানানো যাতে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য বাড়ে। এর ফলে কর আদায় বাড়বে এবং সরকারের আয় বাড়বে। এই বাড়তি আয় দিয়ে ঋণ শোধ করা হবে।

(২) অন্য উপায় হল ঋণের টাকায় সরকারি কর্মীদের বেতন দেওয়া। দেশের নাগরিকদের বিশেষ ভাতা দেওয়া ও তাদের বসে বসে খাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া যাতে তারা পরবর্তী নির্বাচনে সরকারকে আবার ভোট দেয়। ঋণের কিস্তি সরকার আরো টাকা ছাপিয়ে শোধ করে ফেলতে পারবে। তাতে অল্প বিস্তর মুদ্রাস্ফীতি হবে কিন্তু তার জন্য না হয় সরকার আরো ভাতা দিয়ে দেবে। এবার বুঝতেই পারছেন কোন পদ্ধতিটা বেশিরভাগ সরকারের পছন্দ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণের পরিমাণ জুন, ২০১৯ ছিল ২২ লাখ কোটি ডলার। সেখানে মার্কিন GDP ২০১৯ ২১ লাখ কোটি ডলার। মানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণ তার দেশের মোট আয়ের বেশি। ঋণের কিস্তি শোধ দেওয়ার সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরো ডলার ছাপিয়ে দেয়। আপনি বলতে পারেন বাহ্ বেশ ভালো উপায় তো। টাকা ছাপাও আর ঋণ শোধ কর। শুনতে সহজ মনে হলেও ব্যাপারটা ততটা সহজ নয়। টাকার উপর মানুষের ভরসাটাই আসল। মানুষ মার্কিন অর্থনীতির উপর ভরসা করে এবং তাকে সহজে ঋণ দেয়। এই ঋণ শোধ করতে তারা ডলার ছাপালেও বিশ্ব বাণিজ্যে ডলারের বিপুল চাহিদার কারণে সেই অনুপাতে ডলারে ক্রয় ক্ষমতা কমে না। মানে বিশ্ব বাণিজ্যে ডলারের চাহিদা অনুযায়ী ডলারের যোগান কম এই কারণে ডলার বেশি ছাপালেও মার্কিন অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি হবে না তেমন। বাড়তি ডলার বিশ্ব বাণিজ্যের যোগান দিতে বেড়িয়ে যাবে। যেহেতু দিন দিন বিশ্ব বাণিজ্য বাড়বে ডলারের চাহিদাও বাড়বে তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছা মত ঋণ নেয় এবং তার কিস্তি দেওয়ার সময় এলে ডলার ছাপিয়ে শোধ করে। তবে বিশ্বজোরে আর্থিক মন্দার কারণে বিশ্ব বাণিজ্য ধাক্কা খেয়েছে এর ফলে ডলারের চাহিদা যতটা প্রত্যাশিত ছিল তার চেয়ে কম বেড়েছে। এই কারণে এই পন্থায় ডলার ছাপাতে মুশকিল হচ্ছে। যেকারণে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে হতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ঋণ শোধ করতে পারবে না। এমন হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে কী ভীষণ প্রভাব পরবে তা বলে বোঝানো যাবে না। তাই যদি আপনার দেশের অর্থনীতির উপর মানুষের ভরসা থাকে এবং আপনার টাকা বিশ্ব বাণিজ্যে প্রচুর ব্যবহৃত হয় তবে আপনি বলতে গেলে ইচ্ছা মত টাকা ছাপাতে পাড়েন। তা না হলে, বিনা আর্থিক বৃদ্ধিতে ইচ্ছা মত টাকা ছাপালে আপনার দেশের অবস্থা ভেনেজুয়েলা বা জিম্বাবুয়ের মত হবে। তখন দেশের মানুষই আর আপনার টাকা ব্যবহার করবে না তার বদলে ডলার বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করবে।

bottom of page